বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
শিশুরা খাবে, শিখবে—স্কুলেই আসছে পুষ্টির নিশ্চয়তা!
অনলাইন ডেস্ক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সেপ্টেম্বর থেকে চালু হচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি—এমনটাই জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী, সেপ্টেম্বর থেকেই মাঠে নামা যাবে। ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, প্রশিক্ষণও চলমান। আগস্টের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হবে।”
তিনি জানান, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও শক্তিশালী করতে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫০টি উপজেলায় বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে এবং অপরটি কক্সবাজার ও বান্দরবানে পরিচালিত হবে।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নুর মো. শামসুজ্জামান, এবং পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
ডা. বিধান রঞ্জন আরও বলেন, প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ ও দশম গ্রেড প্রদানের প্রক্রিয়া চলমান, পাশাপাশি পিএসসির মাধ্যমে ৩ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াও চলছে। নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষার বাইরেও আলাদা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে বছরে মাত্র ১৮০ দিন স্কুল খোলা থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংযোগ না থাকলে শেখার গতি কমে যায়। তাই সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আনন্দঘন শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত “প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অংশীজন মতবিনিময় সভায়” সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। এতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন উপজেলার প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
তারা মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যত্রতত্র গড়ে ওঠা বেসরকারি স্কুল নিয়ে উদ্বেগ জানান। পাশাপাশি, তারা মূল্যায়ন পদ্ধতির স্বচ্ছতা, শিশুদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রশিক্ষণের গুণগত মান বৃদ্ধির দাবি জানান।
সভার পুরো পরিবেশে উঠে আসে একটাই বার্তা—প্রাথমিক শিক্ষা যেন হয় আরও মানসম্মত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আনন্দদায়ক। এই বাস্তব চিত্রে নতুন আশা দেখছে সকলে।